লকডাউনেও বইমেলায় পাঠকের ভিড়

করোনার প্রকোপ বাড়ার কারণে গতকাল থেকে সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী লকডাউন শুরু হয়েছে। গতকাল লকডাউনের প্রথম দিনে বইমেলা ছিল পাঠক এবং ক্রেতা শূন্য।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) এর চিত্র ভিন্ন। বইমেলায় এদিন অনেক পাঠক এসেছেন। দুপুরের পর থেকে মেলায় মানুষ এসেছেন স্রোতের মতো। গতকাল রাস্তায় যানবাহন তেমন দেখা না গেলেও আজ বাস ছাড়া সব ধরণের পরিবহন চলতে দেখা গেছে। সেসব পরিবহণে ক্রেতা-দর্শণার্থীরা এসেছেন মেলায়। কেবল আসেননি, সবাই বইও কিনেছেন।

লকডাউনের মধ্যে মেলা খোলা রাখা এবং খোলার সময় নিয়ে মেলায় কথা হয়েছে প্রকাশক, লেখক, পাঠকের সাথে।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, ব্ইমেলা যেহেতু খোলা রেখেছে, সেহেতু সময়ের ব্যাপারে একটু বিবেচনা করা যেত।

আগামী প্রকাশনীর ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, লকডাউনের কারণে একদম লোক আসেনি। স্টল বন্ধ করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আজ পাঠকদের মেলায় এসে বই কেনা দেখে আশাবাদী হচ্ছি।

অধ্যায়ণ প্রকাশনীর তাসনূভা আদিবা বলেন, প্রথমদিন ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। আজকের চিত্র ভিন্ন। যারা আসছেন, সবাই লিস্ট নিয়ে এসেছেন। বই কিনছেন। মেলা খোলা রাখার স্বার্থকতা এখানেই।

বিশ্বসাহিত্য ভবনের প্রতিনিধি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, লকডাউনের কারণে প্রথমদিন ক্রেতা আসেনি। আজ যারা এসেছেন, সবাই বই কিনছেন। তবে সময়টা ৪-৭ টা হলে আরও ভালো হতো।

কাকলী প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক এম এস এমরান আহমেদ বলেন, কাল পাঠক মেলায় আসতে পারেনি। কীভাবে আসবে? পরিবহন বন্ধ। আজ পাঠকের উপস্থিতি দেখে ভালো লাগছে।

নালন্দা প্রকাশনীর প্রতিনিধি এমরান খাঁন বলেন, কাল একদম লোকজন মেলায় ছিল না। আজ এসেছে। কাল থেকে পরিবহন চলবে বলে শুনেছি। আশা করছি পাঠকও মেলায় আসবে।

সমকাল সম্পাদক ও লেখক মুস্তাফিজ শফি বলেন, লকডাউনে মেলা চলছে, মানুষ আসছে, বই কিনছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। মেলায় নিরাপদ দূরত্ব রেখে মানুষ এসে বই কিনছে, এটাই আশার কথা।

কথা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন বলেন, বার বার মেলার সময় বদল, লগডাউন, করোনা, ঝড়ের সময় এত বাধার পরও সরকার মেলা খোলা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এখন যারা মেলায় ঢুকছে, তারা সত্যিকার পাঠক। এভাবে পাঠক বাকী দিনগুলিতে মেলা থেকে বই কিনবে, এব্যাপারে আমি আশাবাদী।

মেলায় আজ উপন্যাস ও কবিতার বই এসেছে লেখক, কবি এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের। তিনি বলেন, লকডাউনে লেখকের সমস্যা নেই। তারা ঘরে বসে লিখবেন। গাড়ি বন্ধ হবার পরও যে মানুষ মেলায় এসেছে, এটি আশা জাগানিয়া। তবে কাল থেকে যেহেতু গাড়ি চলবে, পাঠকের উপস্থিতিও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি। মেলা বন্ধ না করে খোলা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

ভাষাচিত্র প্রকাশনীর খন্দকার সোহেল বলেন, সরকার যেহেতু লকডাউনেও মেলা খোলা রেখেছে, সেহেতু বিকেল ৪টা থেকে ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখলে আমরা প্রকাশকরা বাঁচতাম। পাঠক মেলায় আসেই বিকেলবেলা।

শেয়ার করুন