মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় করপোরেট কর বাড়ছে

আগামী বাজেটে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় করপোরেট কর বাড়ানোর ঘোষণা আসছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর হ্রাসকৃত হারে করপোরেট কর বসানো হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালে বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে রকেট নামে প্রথম এই সেবা চালু হয়। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিকাশ এই সেবা চালু করে। বর্তমানে ১৫টি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-এম ক্যাশ, শিওর ক্যাশ, ইউক্যাশ, মোবাইল মানি, নগদ ও উপায়।

বর্তমানে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে সাধারণ কোম্পানির মতো করপোরেট কর দিচ্ছে। আগামী বাজেটে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাটাগরিতে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হলে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত হলে ৪০ শতাংশ কর দিতে হবে। যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনো এমএফএস প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি, তাই সব প্রতিষ্ঠানকেই ৪০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের মতোই আর্থিক লেনদেন করছে। ব্যাংকে সশরীরে গিয়ে লেনদেন করতে হয়। পক্ষান্তরে এমএফএসে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং অথরিটি একই কর্তৃপক্ষ (বাংলাদেশ ব্যাংক) হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিবেচনার যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে। তাছাড়া এ খাতে প্রতিনিয়ত লেনদেনের সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মুনাফাও বাড়ছে। তাই বাজেটে এমএফএস প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডাক বিভাগের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, সামগ্রিকভাবে এমএফএসে বিনিয়োগকারী এবং সেবা পর্যায়ে আগে থেকেই অনেক বেশি ট্যাক্স কার্যকর আছে। তার ওপর করপোরেট কর সাড়ে ৩২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা, সেটি এই সেবার প্রসারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে, যা সামগ্রিক ডিজিটালাইজেশনের জন্যই একটি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, আর্থিক খাতের ডিজিটালাইজেশন করতে না পারলে ডিজিটালাইজেশনের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। অথচ চলমান কোভিডের সময়ে গ্রাহককে আরও বেশি এমএফএস সেবার প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে ক্যাশলেস সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়।

অন্যদিকে বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর হ্রাসকৃত হারে করপোরেট কর আরোপ করা হচ্ছে। এ করহার ১৫ শতাংশ হবে। আগেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর হ্রাসকৃত কর ছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা আদায় বন্ধ আছে।

২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হ্রাসকৃত হারে করপোরেট কর আরোপ করা হয়। এনবিআরের জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাদানে নিয়োজিত প্রাইভেট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় করমুক্ত রাখা হয়।

তবে ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতিবছর নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীসহ আয়কর বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। পরে ২০১০ সালে নতুন আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব ধরনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর আরোপ করে এনবিআর। এ প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে উচ্চ আদালতে ৪৬টি রিট আবেদন করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৯ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায় না করতে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আয়কর আদায় বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআরকে আপিল করার অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের সহসভাপতি ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হয়। আর ইনকাম ট্যাক্স আইনে ট্রাস্টের আয়কে করমুক্ত করা আছে। এখন এনবিআর নতুন করে কর বসালে তা বেআইনি ও অযৌক্তিক হবে বলে মনে করি।

শেয়ার করুন