বঙ্গবন্ধুর স্পর্শেই চা শিল্প উজ্জীবিত হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, অল্প কিছুদিনের জন্য চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওই সময়টুকুতেই এই শিল্পকে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন অনেক দূরে। তাই বলতে হয়, বঙ্গবন্ধুর স্পর্শেই চা শিল্প উজ্জীবিত হয়েছে।আজ শুক্রবার (৪ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের প্রথম জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

টিপু মুনশি বলেন, চা শিল্পের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর যোগদানের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে বঙ্গবন্ধু অল্প কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে এটিকে এগিয়ে নিয়েছেন অনেক দূরে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি চা ভবন, রিসার্চ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলছেন। তাই এটা শুধু একটি দিবস না। এরসঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক বিষয়।তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে চা শিল্পের উন্নয়ন শুরু হয়েছিল। স্বাধীনতার পর তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন এই চা শিল্প, চা বাগান নিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের শ্রেণির কথা ভেবেছেন, উদ্যোগ নিয়েছেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার চেষ্টায় আগের তুলনায় দেশের অর্থনীতির চিত্র অনেক বদলে গেছে। মানুষের জীবন যাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে।অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, চা শিল্প নিয়ে আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে। চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের হয়তবা আমরা কিছু দিয়েছি, কিন্তু আরও অনেক কিছু দেওয়া বাকি। বঙ্গবন্ধু যখন চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন তখন প্রথমেই এই শিল্পের শ্রমিক শ্রেণিদের নিয়ে বেশি ভেবেছেন। তাই এই শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এই বিষয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে। তাদের জন্য কাজ করতে হবে। নতুন নতুন উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর সঙ্গে ভালোভাবে যুক্ত করতে হবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই শিল্পকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, ১৯৫৭ সালের ৪ জুন হতে ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে চা শিল্পের উন্নয়নে তিনি অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন। চা শিল্পে তার অসামান্য অবদান ও চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তার যোগদানের তারিখ স্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে চা শিল্পের ভূমিকা বিবেচনায় গত বছরের ২০ জুলাই মন্ত্রীসভার বৈঠকে ৪ জুনকে জাতীয় ‘চা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন