১২৯ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ                       ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানেই লাখ শহীদের হত্যাকারীদের পক্ষ নেওয়া : জয়                       কামাল হোসেনের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশকে ইসির চিঠি                       নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে, নাম ‘পেথাই’                       ঐক্যফ্রন্টের বিজয় শোভাযাত্রা, হামলা বন্ধের আহ্বান       

মাহমুদউল্লাহ

গ্যালারিতে গর্জন উঠেছিল বলে খানিকটা ব্যাট নাড়ালেন। যতটুকু না হলেই নয়। কে জানে, মাহমুদউল্লাহ হয়তো উদ্‌যাপনটা জমিয়ে রেখেছিলেন একটু জমিয়ে করবেন বলে। এমনকি সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ২ হাজার রান পূর্ণ করেও যেমন উদ্‌যাপন, তেমন হলো না।কিন্তু জমিয়ে রাখা উদ্‌যাপনটা ‘জাবেদা খাতা’য় পড়ে রইল। ৮৩ রানে অপরাজিত থেকে ফিরলেন। আর ১৭টা রান হলেই ইতিহাসের মাত্র ২৯ জনের সংক্ষিপ্ত এক তালিকায় নাম উঠে যেত তাঁর! দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো সুযোগ আছে, এই তথ্য মাথায় রেখেও বলতে হচ্ছে, বেচারা!মাহমুদউল্লাহ আসলেই টেস্ট দলের ‘বেচারা’ সদস্য। বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বলে টেস্টে ব্যাটিং পেতেন আটে বা নয়ে। ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ইনিংস এত নিচে খেলার পর হঠাৎ পাঁচে উঠে আসেন। কারও দয়ায় নয়। ওই ৫ টেস্টে এত নিচে নেমেও একটি সেঞ্চুরি, একটি ৯৬ আর একটি ৬৯ রানের ইনিংসে ৪৮.৩৭ গড়ে রান করেছিলেন বলে।সঙ্গীর অভাবে তাঁর কত সম্ভাবনাময় ইনিংস পুরো পাপড়ি মেলে ফুল হয়ে উঠতে পারেনি, হিসাব করতে সময় তো লাগবে। বেশির ভাগ সময় নিজে আউট হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু অন্য দিকে যখন ভরসা করার কেউ থাকে না, ঝুঁকি নিয়ে তো খেলতেই হয়। আজকের ইনিংসটা তাঁর চির আক্ষেপ হয়ে থাকে কি না, কে জানে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তি আছে মাত্র ২৯ জনের।হয়তো আক্ষেপ তিনি করবেন না। আজ শেষ জুটিতে মোস্তাফিজকে নিয়ে ৩৭ মিনিট কাটিয়ে দিয়েছিলেন। কাটার মাস্টারের স্কুপ করতে চাওয়ার বোকামির খেসারত দিলেন আসলে মাহমুদউল্লাহই। তবু খুব বেশি হতাশ তাঁকে দেখাল না। সব সময়ই দলের কথা ভেবেছেন, নিজের করে চাওয়া খুব বেশি হয়নি। বাড়ির বড় ছেলের তো শুধুই স্যাক্রিফাইস বরাদ্দ।ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্টে পাঁচে উঠে আসার পদোন্নতিটাও যেমন বেশি দিন টেকেনি। পাঁচে নেমে চার ইনিংস দুটি ফিফটি করেও আবার আট-নয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল অন্যদের জায়গা করে দিতে হয়েছে বলেই।মাহমুদউল্লাহ মানুষটাই এমন, এ নিয়ে কোনো অনুযোগ কখনো করেছেন বলে মনে হয় না। এই টেস্টে নিজে অধিনায়ক হিসেবে ওপরে নামার সুযোগটা নিতে পারতেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের শুরুটা যখন দুর্দান্ত হয়েছিল, মিডল অর্ডারের ওপর চাপ ছিল কম।কিন্তু মাহমুদউল্লাহই যদি নির্ভার পরিস্থিতির আয়েশটা গোঁফে তা দেন; কঠিন পরিস্থিতিকে খেলবে কে? ২ উইকেটে ৩৫৬ তোলা বাংলাদেশ যখন পরের ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলল, কান্ডারি সেই মাহমুদউল্লাহ।টেল এন্ডারদের নিয়ে তাঁর নিঃসঙ্গ লড়াই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে এসেছে। এই টেস্টে তবু মোসাদ্দেক-মিরাজরা ছিলেন। কিন্তু তাঁরাও সঙ্গ দিতে রাজি হলেন না। ৭ উইকেটে ৪১৭ তোলার বাংলাদেশ শেষ তিন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে যে ৯৬ রান যোগ করল, তাতে মাহমুদউল্লাহরই রান ৬০।এর মধ্যে অষ্টম উইকেটে এল ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৫৮ রানের জুটি, যেটা না হলে বাংলাদেশ ৫০০ পেরোত বলে মনে হয় না। তবে এর চেয়ে দুর্দান্ত জুটি হলো আসলে শেষ উইকেটে।জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের প্রেসবক্স থেকে সবুজ ঘাসের জমিনে নরম রোদে যেন ক্রিকেট নয়, দাবা খেলা দেখার রোমাঞ্চ হচ্ছিল। শ্রীলঙ্কা বড়ে টাকে তুলে নিয়ে রাজাকে নির্বাসনে দিতে চেয়েছিল। একটা মাত্র সৈন্য নিয়ে রাজা চালিয়ে গেলেন আরও প্রায় ৫৭ বলের (পড়ুন চালের) খেলা। মোস্তাফিজও আস্থার সঙ্গে খেলে বড়ে থেকেই মন্ত্রী হয়ে উঠতে চাইছিলেন বোধ হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘মন্ত্রী’ খোয়া গেল একটা চালের ভুল! কোথায় দাঁড়াই!তাতেই বিলি মারডক-ক্লাইভ লয়েড থেকে শুরু করে স্মিথ-কোহলিদের অভিজাত ক্লাবে এই নামগুলোর পাশে দাঁড়ানো হলো না মাহমুদউল্লাহর।টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরি খুব বেশি জনের কিন্তু নেই। টেস্টের তিনটা দলের কেউ তো এই কীর্তি করতেই পারেনি। বাকি সাত দলের মাত্র ২৯ জন এই কীর্তি গড়েছেন। সর্বশেষ এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন একালের দুই মহারথী বিরাট কোহলি আর স্টিভ স্মিথ।এই তালিকায় মারডক, ক্লেইম হিলের মতো ক্ল্যাসিক যুগের অধিনায়কেরা আছেন। আছেন আধুনিক যুগের ক্লাইভ লয়েড, গ্রেগ চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কাররা। শিবনারায়ণ চন্দরপলের মতোও কেউ কেউ ফাঁকে–ফোকরে ঢুকে পড়েছেন। কিন্তু তাতেও এই কীর্তি যে কতটা অবিশ্বাস্য, সেটা ২৯ জনের সংখ্যাটাই বলে দিচ্ছে। টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে ৩২৭ জনের মধ্যে কত কম জনের আছে সেই গর্বের মুকুট!মাহমুদউল্লাহর দুঃখটা সবচেয়ে ভালো বুঝবেন সাকিব আল হাসান। সাকিবের চোটের সুযোগে অধিনায়কের ভার পেয়ে আজ এই ইনিংসটা খেললেন। সাকিবও এমন মাশরাফির চোটে হুট করে অধিনায়কত্ব পেয়ে অপরাজিত ছিলেন ৯৬ রানে! কী আশ্চর্যভাবে দুজনে মিলে গেলেন।মাহমুদউল্লাহ তবু দ্বিতীয় ইনিংসে সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু এত দারুণভাবে সাজানো মঞ্চ, প্রায় নিঃসঙ্গ লড়াইয়ের গল্পটা একটুর জন্য রূপকথা না হওয়ার আক্ষেপের সান্ত্বনা তা হতে পারছে কই?


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম