সুইসাইড নোট লেখা আর্জেন্টাইন সমর্থকের লাশ উদ্ধার                       হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে রায় ২ জুলাই                       পাবনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১                       পাবনায় বন্দুকযুদ্ধে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি নিহত                       একদিনে সড়কে নিহত ৫২       

‘আমার কথাগুলো এলোমেলো, গুছিয়ে নেবেন’

আমরা কখনও ভাবিই না যে ইশরাত নেই। আমাদের মনে হয় সবসময়ই ও আমাদের সঙ্গে আছে। হয়তো দেখতে পাচ্ছি না, হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারছি না বোনটাকে। কিন্তু কোথাও না কোথাও সে আছে, ভালোই আছে— এটা ধরে নিয়েই জীবন চালাচ্ছি। এতে করে আমাদের বেঁচে থাকাটা সহজ হয়।’থেমে থেমে কথাগুলো বলছিলেন গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ইশরাত আখন্দের ভাই এম এ ইউসুফ আখন্দ। খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে তিনি বারবার বলছিলেন, ‘এগুলো খুব ব্যক্তিগত অনুভূতি, গুছিয়ে বলার মতো না। তাই আমার কথাগুলো খুব এলোমেলো, আপনি প্লিজ গুছিয়ে নেবেন।ইউসুফ বলতে থাকেন, ‘আমাদের চার ভাইবোনের মধ্যে দুই ভাই আগেই মারা গিয়েছেন। ইশরাত ছিল আমার সাত বছরের ছোট। তবু পিঠাপিঠি ভাইবোন হিসেবে আমাদের সম্পর্কটা ছিল অনেক অন্তরঙ্গ, মধুর।’ ওই দিনের পর থেকে ৮৫ বছর বয়সী মা আছিয়া খাতুন প্রতিদিন কান্না করেন বলে জানান ইউসুফ।

সেদিনের ঘটনা কখন জানতে পারলেন— জানতে চাইলে ইশরাতের ভাই বলেন, ‘গুলশানে কিছু একটা হয়েছে শুনে আমি আর মা ওকে ফোন করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ফোনে পাইনি ওকে। পরদিন সকালে আত্মীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি ইশরাতের কথা।’

 

এরই মধ্যে ড্রয়িংরুমে ইশরাতের আঁকা পেইন্টিংয়ের সামনের সোফায় বসলেন তার মা। ইউসুফ আখন্দ এ প্রতিবেদককে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই মুখে কাপড় চেপে আছিয়া খাতুন বলেন, ‘বলার তো কিছুই নাই রে মা! সন্তান হারানোর যে কষ্ট, তার মতো কষ্ট দুনিয়ায় আর নাই।’

একটু সময় নিয়ে আছিয়া খাতুন বলেন, ‘মেয়েটা খুব আদরের ছিল। সবাই ওকে আদর করত। সেই মেয়েটা আমার চলে গেল। এই কষ্ট বোঝানোর কোনও ভাষা নেই। মেয়ের অভাব তো কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। আমার মেয়েটা খুব গুণী, বুদ্ধিমতী আর সাহসী ছিল। আল্লাহ ভালো জানেন, কেন সেই মেয়েটাকেই আমার হারাতে হলো। সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়। কিন্তু সান্ত্বনা দিয়ে কী করব, আমার মেয়েকে তো আর কোনোকিছু দিয়েই ফেরত পাবো না।’ তবে তিন-চারটা ছেলে এত অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকলো, অথচ কেউ তাদের দেখলো না কেন— সেই প্রশ্নটাই আবার তুলে ধরেন তিনি।

 

গাজীপুরে নিজের কর্মস্থলের পাশে ইশরাতকে দাফন করেছেন জানিয়ে ইউসুফ বলেন, ‘বোনটাকে আমার কাছেই রেখে দিয়েছি, কবর দিয়েছি আমার অফিসের পাশেই। ইচ্ছা হলেই সেখানে যাই। এভাবেই ইশরাত আমাদের সঙ্গে আছে। ও নেই, এটা আমরা কখনই ভাবি না। এতে আমাদেরও বেঁচে থাকতে সুবিধা হয়। আমাদের বিশ্বাস, ও যেখানেই আছে ভালো আছে। কারণ ইশরাত কখনও খারাপ থাকত না।


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম