ভারত-পাকিস্তান মহারণ আজ                       গাজীপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের স্ত্রী ও ছাত্র খুন                       রাজধানীতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২                       নাটোরে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' মাদক ব্যবসায়ী নিহত                       ম্যাচ সেরা মুশফিক       

টিলা কেটে মাটির ব্যবসা ঝুঁকির মুখে বসতঘর

পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার আলী আকবরপাড়া গ্রামের ‘করইল্ল্যা মুরা’ নামক একটি সরকারি টিলা কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বেশ কয়েকটি বসতঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা বন বিভাগের দক্ষিণ সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. সরওয়ার আলম বলেন, আলী আকবরপাড়া গ্রামে সরকারি টিলা কাটার খবর পেয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি বন বিভাগের কর্মীদের নিয়ে অভিযানে গেলে মাটি কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকেরা পালিয়ে যান। এ সময় তিনটি কোদাল, একটি শাবল, একটি খুন্তি ও চারটি ঝুড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, টিলা কাটায় জড়িত যে–ই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ধারা ৬-এর খ উপধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাহাড় বা টিলা ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও তা কাটতে পারবে না। তবে জাতীয় স্বার্থে একান্তই কোনো টিলা কাটতে হলে অধিদপ্তরের অনুমোদন নিতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, করইল্ল্যা মুরা টিলার প্রায় ১০ শতক কেটে ফেলা হয়েছে। এতে টিলার ওপর ও আশপাশের ১৫-২০টি বসতঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি বসতঘরের মাটির দেয়াল ফেটে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রমিক নিয়োগ করে সরকারি টিলা থেকে মাটি কাটছেন। প্রতিদিন সাত-আটটি মিনি ট্রাকে টিলার মাটি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। প্রতি ট্রাক মাটি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ, কালা মিয়া, আবদুল হক, তাহেরা বেগম ও রোখসানা বেগম তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর দেখিয়ে বলেন, টিলা কাটার ফলে তাঁদের ঘরের বিভিন্ন স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ার আতঙ্কে বসবাস করে আসছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি শুরু হলে টিলা ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু তারপরও স্থানীয় প্রশাসন এসব টিলা কাটায় বাধা দিচ্ছে না।
হ্নীলা ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা আক্তারুল আলম চৌধুরী বলেন, নুরুল আমিন, জামাল হোসাইন, সাবের আহমদ, নুরুল আলম ও মো. ইব্রাহীমের নেতৃত্বে একটি চক্র সরকারি পাহাড় কাটছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার বন আদালতে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। দু–এক দিনের মধ্যে মামলা হবে।
তবে অভিযুক্ত নুরুল আমিন, সাবের আহমদ, নুরুল আলম ও মো. ইব্রাহিম দাবি করেন, পাহাড়টি বন বিভাগের নয়, তাঁদেরই জোত (মালিকানাধীন) টিলা। তাঁরা আরও জানান, মাটি কাটার ফলে যেসব ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেগুলো টিলার চূড়া কেটে সমতল করার পর পুনরায় নির্মাণ করবেন। টিলা সমতল করার জন্যই তাঁরা মাটি কাটছিলেন বলে দাবি করেন।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ কে আনোয়ার জানান, টিলা কাটার খবর পেয়ে তিনি মুঠোফোনে বিষয়টি বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। এর আগে জানুয়ারি মাসে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায়ও তিনি বিষয়টি তুলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবদুল মজিদ বলেন, ঘটনাস্থলে একাধিকবার পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু টিলা কাটায় সঙ্গে জড়িত কোনো লোককে তাঁরা পাননি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মো. শফিউল আলম  বলেন, ‘যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন টিলা কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ আইনে সৈকত ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় জমির শ্রেণি পরিবর্তন, পাহাড় ও টিলা কাটা নিষিদ্ধ।


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম