ঢাকাটাইমস, প্রিয়ডটকমসহ ৫৮ নিউজ সাইট বন্ধের নির্দেশ                       ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা                       ছয় দফা কার্যকর হলেই ক্লাসে ফেরার ঘোষণা ভিকারুননিসার ছাত্রীদের                       বিশ্বের ২৬তম ক্ষমতাধর নারী শেখ হাসিনা                       রাজধানীতে ট্রাক চাপায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত       

গল্পটা এগিয়ে চলার

ছোট্ট পরিসর, নতুন গড়ে ওঠা ভবন। বালুর মাঠে উঁকি দিতে শুরু করেছে দূর্বাঘাস। গোলাপ-গাঁদার বাগানে ফুল ফুটেছে। চারাগাছগুলোও বেড়ে উঠছে একটু একটু করে। বেড়ে উঠছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সম্ভাবনাও।

২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে ২০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয়েছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। ২০১০ সালে পাবনা শহর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার ৩০ একর জমি অধিগ্রহণের মধ্য দিয়ে স্থায়ী ঠিকানা পায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

অল্প কদিনেই সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স, বিজনেস স্টাডিজ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান—এই পাঁচটি অনুষদের ১৯টি বিভাগে পড়ছেন প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল, পুরকৌশল, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, স্থাপত্য ও রসায়নের পাশাপাশি পড়ানো হচ্ছে বাংলা, অর্থনীতি ও ফার্মেসি। রয়েছে একটি ভাষা ইনস্টিটিউট, ৫০ হাজার বই সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, পাঁচটি আধুনিক গবেষণাগার, ক্যাফেটিরিয়া, স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ, নিজস্ব পরিবহনব্যবস্থা, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও দুইটি আবাসিক হলসহ নানা স্থাপনা।

বিভিন্ন স্থাপনার নকশা করছেন স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাবিভিন্ন স্থাপনার নকশা করছেন স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাক্যাম্পাসে একদিন

বেলা ১১টা। ক্যাম্পাসে মিষ্টি রোদের দেখা মিললেও দূর্বাঘাসের শিশির তখনো শুকায়নি। শিক্ষার্থীদের অনেকেই ছুটছেন নিজ নিজ বিভাগের দিকে। কেউবা আবার মাঝ ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর ঘিরে বসেছেন আড্ডায়। চলছে ফেসবুকিং, গল্প, গিটার বাজিয়ে গানের সুর তোলার চেষ্টা। ঘুরেফিরে কথা হলো অনেকের সঙ্গে।

কয়েক দিন আগেই চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র‍্যাগ ডে হয়েছে। দিনভর নানা আয়োজনে মেতে ছিল ক্যাম্পাস। সে গল্প বলছিলেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের নতুন স্নাতক হ্যাভেন কর্নিয়া। স্নাতকোত্তর শেষ, এখন সবুজ বাংলাদেশ গড়ার কাজ করতে চান তিনি।

খুলনার শারমিন জাহান, ঢাকার অরিত্রী সরকার, কুষ্টিয়ার তাসনুভা জামান ও চট্টগ্রামের জিয়া উদ্দিন পড়ছেন স্থাপত্য বিভাগের প্রথম বর্ষে। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সিট মেলেনি কারও। তাই থাকতে হচ্ছে মেসে। কিছুটা কষ্ট হলেও পাবনার মানুষের আন্তরিকতা ও বন্ধুদের সহযোগিতা নাকি না-পাওয়াগুলো ভুলিয়ে দিচ্ছে। সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রাখার রোমাঞ্চ তো আছেই!এই হলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসএই হলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস

ঢাকার মিরপুর থেকে পাবনায় পড়তে এসেছেন একই বিভাগের কনিকা তামান্না। পড়ার অংশ হিসেবেই যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ার নকশা করছেন তিনি। বললেন, গবেষণার কাজে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছেন সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে। নিজ বিভাগের শিক্ষকদের প্রশংসা করলেন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তরপড়ুয়া মিজানুর রহমানও। শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোগত ঘাটতি থাকলেও শিক্ষকদের ভালোবাসায় কমতি ছিল না বলে দাবি করলেন তিনি। এখন ভালোয় ভালোয় শেষ হতে চলেছে শিক্ষাজীবন। স্বপ্ন দেখছেন অর্থনীতি নিয়ে গবেষণার, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী তাজরীন প্রিয়াংকা ও শবনম হাজারীকে আবার গবেষণা খুব একটা টানে না। বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসনে কাজ করতে চান দুই বান্ধবী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আওয়াল কবির জানালেন, শিক্ষার্থীরা এখানে নিয়মিত গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, খেলাধুলার চর্চাও করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করেছে নতুন নাটকের দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাহিত্য সংগঠন। নিয়মিত উদ্‌যাপন করা হচ্ছে বর্ষবরণ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসসহ নানা কিছু।

সাফল্য ও সম্ভাবনা

এরই মধ্যে উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণায় সাফল্য পেতে শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল​ বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র তরুণ দেবনাথ আবিষ্কার করেছেন ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’। মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এই চেয়ার সহজে প্রতিবন্ধীদের বহন করবে, পথ দেখাবে। তরুণের এই আবিষ্কার ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনোভেশন সামিটে চ্যাম্পিয়নের খেতাব এনে দিয়েছে। তরুণ দেবনাথ বললেন, তাঁর চেয়ারটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে বাণিজ্যিকভাবে তৈরির অপেক্ষায় আছে। এখন তিনি রোগীদের জন্য ‘স্মার্ট বেড’ তৈরি নিয়ে ভাবছেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে দেবে রোগীর অবস্থার বিবরণ।

এর বাইরে আরও ২৭ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছেন। দুজন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ছেন। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের পাশাপাশি নিজস্ব সফটওয়্যার ফার্মও শুরু করেছেন কেউ কেউ।

মুঠোফোনে কথা হলো কয়েকজনের সঙ্গে। বিবিএ প্রথম ব্যাচের সবুজ আহম্মেদ এখন শিক্ষকতা করছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আশিকুর রহমান ট্রিপল-ই থেকে পাস করে এখন পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের আতিকুর রহমান করছেন ফ্রিল্যান্সিং। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়কে তাঁরা দেশসেরা হিসেবে দেখতে চান।

সফলতার মাঝে আছে না-পাওয়াও। শুরু থেকেই ক্যাম্পাসে বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে বেশ কয়েকবার আন্দোলনে করেছেন শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ও একটি অ্যাম্বুলেন্স। আগুনে পুড়েছে দুইটি নিজস্ব পরিবহন, যা এখনো দুঃখের স্মৃতি হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে।

 

আল-নকীব চৌধুরীআল-নকীব চৌধুরীপড়ালেখার পাশাপাশি গবেষণাও চলছে
আল-নকীব চৌধুরী
উপাচার্য, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আমাদের শিক্ষার্থীরা রুটিনমাফিক পড়ালেখার পাশাপাশি গবেষণার কাজ করছে। সেশনজট নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের শিক্ষা বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও বিশিষ্টজনেরা এখানে আসছেন। তাঁরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা আরও দক্ষ হচ্ছে। আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। আগামী দিনের প্রযুক্তিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম