ইন্টারনেটের গতি ফিরতে লাগবে আরও দুদিন                       ‘বন্দুুকযুদ্ধে’ কুষ্টিয়ায় দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত                       'বন্দুকযুদ্ধে' ৫ জেলায় নিহত ৭                       নৌবন্দরসমূহে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত                       হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি মঙ্গলবার       

বৈশাখকে সামনে রেখে চাহিদা বেড়েছে ইলিশের

আতিকুর রাহামানঃইলিশকে এমনিতেই বলা হয় মাছের রাজা। তার ওপরে বৈশাখ মাস এলে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ যেন হয়ে ওঠে মহারাজা। বাঙালির চিরায়ত বর্ষবরণে পান্তা ইলিশকে অনেকেই গুর্বত্ব দেন অন্যভাবে। ইলিশ ব্যতিরেকে বর্ষবরণ অনেকের কাছে অকল্পনীয়। পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে রাজশাহীতে একদিকে যেমন চাহিদা বেড়েছে ইলিশের, অপরদিকে তেমনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুর্ব করেছে ইলিশের দাম।
বর্ষবরণের দিন দেশজুড়ে ইলিশের চাহিদা হয় ব্যাপক। এর ব্যতিক্রম নেই রাজশাহীতেও। কিন’ সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়তে শুর্ব করেছে। গতকাল সাহেব বাজারে প্রতিকেজি ইলিশ মাঝারি সাইজ ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় এবং ছোট সাইজ ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৭ দিন আগে এর দাম কেজিতে ২শ’ টাকা কম ছিল বলে জানান বিক্রেতারা।
জানা গেছে, ব্যাপক চাহিদার তুলনায় বাংলাদেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বিএফডিসিতে ইলিশের সরবরাহ খুবই অপ্রতুল। ইলিশ মৌসুম শুর্ব না হওয়াতে গভীর সমুদ্রের মাছ উঠছে না বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। বলেশ্বর বিষখালীতে যে মাছ শিকার করছেন জেলেরা সেই মাছ খুব ভোরে বেচাকেনা হচ্ছে বিএফডিসি পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।
দূর-দূরান্তের পাইকাররা সামান্য কিছু ইলিশ মাছ কিনতে পারলেও অনেক পাইকার হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। পাথরঘাটার বিএফডিসির মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ হয় ইলিশ। বরগুনা জেলার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, মূলত ইলিশ মৌসুম শুর্ব হবে জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে। বর্তমানে বিএফডিসিতে গভীর সমুদ্রে যাওয়া ফিশিং ট্রলারে মাছ নেই বললেই চলে। জ্যৈষ্ঠ মাসে ইলিশ মৌসুমকে কেন্দ্র করে ফিশিং ট্রলারের প্রাথমিক প্রস’তি চলছে এখন।
সংশিৱষ্টরা জানান, গেলো বছর ‘মা’ ইলিশ রৰার সময় প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। মা ইলিশ রৰায় প্রশাসন সফল। কিন’ ডিম থেকে উৎপাদিত ইলিশের পোনা অবৈধ জালে মারা পড়েছে এবং এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা জাটকা আকারের ইলিশ শিকার করে বিক্রি করেছে। দুঃখের বিষয় হলো সেই জাটকা ইলিশ বিক্রি হয়েছে টনকে টন বিএফডিসিতেই। জাটকা রৰা পেলে বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে মাঝারি ইলিশ পাওয়া যেত বৈশাখের আগেই। যার দ্বারা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা অনেকটা পূরণ হতো।
পাথরঘাটার মৎস্য আড়ৎদার ছগির হোসেন জানান, বিএফডিসিতে যে পাইকাররা আসছেন তাদের চাহিদার শতকরা ২৫ ভাগও দিতে পারছি না। এক কেজি থেকে শুর্ব করে তার অধিক ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ৮০ হাজার থেকে লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয়শ গ্রাম থেকে নয়শ গ্রাম ইলিশ মণ প্রতি ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের ব্যাপক চাহিদার কারণে এমন অপ্রত্যাশিত দামে ইলিশ কেনাবেচা চলছে। জাটকা নিধন বন্ধ ও প্রশাসন তৎপর থাকলে ইলিশের সরবরাহ চাহিদার সঙ্গে সামনঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারতো বলে মনে করেন সংশিৱষ্টরা। তখন দামও সহনীয় থাকত।

 
 


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম