টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে একই পরিবারের নিহত ৩                       নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারে সতর্ক র‍্যাব: বেনজীর                       শাহজালালে ৭ কেজি স্বর্ণসহ মালয়েশীয় নাগরিক আটক                       রাজধানীর যে সব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না আজ                       রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩       

বাজার জমজমাট কয়েল ও মশারির

এটাতে কাজ হবে।’মশার কয়েল কেনা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার এমন প্রশ্নোত্তর রাজধানীর হাতিরঝিলের পাশে মহানগর প্রজেক্ট আবাসিক এলাকার একটি মুদি দোকানে। পকেটের টাকা খরচ করে কয়েল কেনা ও তাতে কাজ হওয়া, না হওয়া নিয়ে এমন বিতর্ক এখন রাজধানীর প্রায় প্রতিটি এলাকার নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে। মশার যন্ত্রণায় অস্থির সবাই। এ কারণে সন্ধ্যা হতে না হতেই পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে চাপ বাড়তে থাকে কয়েল বিক্রির। আহসান হাবিব নামের ওই ক্রেতা বলেন, ‘বাসায় মশারি রয়েছে। কিন্তু শুধু ঘুমের সময়েই মশারি টাঙানো হয়। কিন্তু এর আগের সময়টাতে কয়েল না জ্বালিয়ে তো এক দণ্ডও বসার উপায় নেই।’রাজধানীতে গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশার উৎপাত বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। অবস্থাটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে গেলেও মুখের মধ্যে ঢুকে পড়ে দু-চারটা। রাতের উৎপাত তো আছেই, দিনেও ক্ষেত্রবিশেষে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে বাসাবাড়িতে। এ কারণে পাড়া-মহল্লার দোকানে দোকানে মশা তাড়ানোর সাধারণ কয়েল, ইলেকট্রিক কয়েল, মশারি, ব্যাট, স্প্রে থেকে শুরু করে মশাসংক্রান্ত সব কিছুর বিক্রি বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। এখন শুধু বিভিন্ন দোকান বা শোরুমে নয়, সুপারশপগুলোতেও বিক্রির নিয়মিত একটি পণ্য স্প্রে বা মশার কয়েল।মগবাজার ওয়্যারলেস আবাসিক এলাকার একটি দোকান ‘আহসান স্টোর’। এর বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন সন্ধ্যার আগে আগে এবং সন্ধ্যার পর যত কাস্টমার আসে তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি কয়েল কিনে থাকে। এটা একটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে হিসাবে আমার দোকানেই প্রতিদিন পাঁচ থেকে আট প্যাকেট কয়েল বিক্রি হয়।’ একই এলাকার আরেক বিক্রেতা বললেন, পরিবারের খাদ্য সংস্থানের জন্য চাল না কিনে যেমন উপায় নেই, তেমনি প্রতি রাতে কয়েল ছাড়া এক দণ্ডও চলে না।শুধু সাধারণ কয়েল নয়, মশা তাড়াতে ইলেকট্রিক কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট, মশারি—সব কিছুরই এখন রমরমা বাণিজ্য। গুলিস্তানে জিপিওর উল্টো পাশে ফুটপাতে সারিবদ্ধ হয়ে কয়েকটি মশারির দোকান বসে।  বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মানের মশারিগুলো দেড় শ থেকে তিন শ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক দোকানের বিক্রেতা তানভীর বলেন, এখন মশারি বেচার মৌসুম। মশা বাড়ছে, বিক্রিও বাড়ছে। এই দোকান থেকেই আট-দশটা যায় প্রতিদিন।গুলিস্তানে জাহানারা কমপ্লেক্সে একটি দোকান ‘নিউ চিটাগং বেডিং’। এই দোকানের মাঝখানে একটি ব্যানারে বড় করে একটি কম্পানির বিজ্ঞাপন ঝুলছে। এতে লেখা, ‘মশারী; বাহিরে নয়, ভিতরেই ঘুমান।’ এই দোকানে মশারি বিক্রি সন্তোষজনক নয় বলে দাবি দোকানির। তবে পাশের সুমন সুপার মার্কেটের জিরকন শোরুমের প্রোপ্রাইটর আকরাম উদ্দিন বলেন, মশারি বিক্রি বেশ জমজমাট। নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে।ফুলবাড়িয়ার সিটি সুপার মার্কেটের নিচতলায় দোকানগুলোতে পাইকারি দরে শুধু মশারি ও মশারির কাপড় কিনছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দোকানিরা। প্রতিটি দোকানের সামনেই ভিড় লেগে আছে। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মশার উপদ্রব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশারির বাজারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মাসখানেক আগেও যেখানে টুকটাক বিক্রি ছিল, সেখানে বর্তমানে বিক্রির পরিমাণ দিনে গড়ে ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় উঠে এসেছে। একই মার্কেটের সুমন এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা শামীম মিয়া বলেন, ‘গতকাল ৪৮ হাজার টাকার মশারি বিক্রি করেছি। প্রতিদিনই কমবেশি ভালো বিক্রি হচ্ছে।’এদিকে খুচরা বাজারে কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্প্রের মধ্যে অ্যারোসল, মশার সাধারণ ও ইলেকট্রিক কয়েল এবং মশারির বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম