নৌবন্দরসমূহে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত                       হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি মঙ্গলবার                       খুলনায় ৮শ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প একনেক সভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায়                       ঢাকায় নেমেই কক্সবাজার গেলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া                       আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা সন্ধ্যায়       

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ সোনালী, ব্র্যাক জনতা ও ডাচ বাংলা ব্যাংকের বিরুদ্ধে

কানাডা-প্রবাসী সায়লা আরজুমান বানু স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব পরিচালনা করেন। যে হিসাবে বাংলাদেশে তার বাড়িভাড়া বাবদ অর্জিত অর্থ জমা হয়ে থাকে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে তিনি ব্যাংক হিসাবের তথ্যে দেখেন তার হিসাব থেকে তিন লাখ ৬৮ হাজার ৫০০টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা তার কোন প্রতিকার করেনি। পরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেন।

 

কাজী মাসকুর উর রহিম একটি দেশীয় প্রাইভেট ব্যাংক থেকে ৯.৮% (পরিবর্তনযোগ্য) হার সুদে ১০ বছর মেয়াদের জন্য ২১ লাখ টাকা হোম লোন নেন। ওই সুদের হার প্রতি ছয় মাস অন্তর ১৮২ দিন মেয়াদি সরকারি ট্রেজারি বিলের সুদের হারের উপর ভিত্তি করে পুনঃনির্ধারণ করার শর্তযুক্ত ছিল। প্রথমে ওই ঋণের সুদের হার ৯.৮০% (ফ্লোটিং) হলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪.৯০%। পরবর্তীতে ট্রেজারি বিলের সুদের হার কমলেও সে অনুপাতে ঋণের সুদের হার কমানো হয়নি মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেন তিনি।

 

মো. হুমায়ুন কবির পূবালী ব্যাংক লি. এর হাসপাতাল রোড শাখা, বরিশাল থেকে ২০১১ সালের এপ্রিলে ৬ বছরে দ্বিগুণ মুনাফা স্কীমের আওতায়  দুই লাখ টাকার ডিপিএস খোলেন। মেয়াদপূর্তিতে ওই ডিপিএস নগদায়ন করতে গেলে ব্যাংক থেকে তাকে চার লাখ টাকার পরিবর্তে তিন লাখ ৩৫ হাজার ৪০০ টাকা পরিশোধ করা হয়। কম্পিউটারে এন্ট্রি দেওয়ার সময় স্কীমটির বিপরীতে ৬ বছরের পরিবর্তে ভুলে ৭ বছর ইনপুট দেওয়া হয়েছে বলে এ টাকা কম হয়েছে বলে ব্যাংক থেকে তাকে জানানো হয়। পরে প্রতিকার না পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এমন নানান অভিযোগ ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে। গ্রাহকরা ব্যাংকগুলোতে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরনাপন্ন হয়েছেন। পরে অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে সমাধানও হয়েছে। গ্রাহক সেবা নিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ এসেছে ৩ হাজার ৫২১টি, যার শতভাগ নিস্পত্তি হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসেছিল ৪ হাজার ৫৩০টি। এই হিসাবে গত অর্থবছরে প্রাপ্ত অভিযোগ কমেছে প্রায় ১০০০টি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট (এফআইসিএসডি) এর কার্যক্রমের ওপর প্রণীত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এফআইসিএসডিতে প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে টেলিফোনে এসেছে ১ হাজার ৩৬২টি এবং লিখিতভাবে আসে ২১৬৪টি। এ সময়ে অধিকাংশ অভিযোগই ছিল সাধারণ ব্যাংকিং সংক্রান্ত; যা মোট অভিযোগের ৪০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঋণ ও অগ্রিম সংক্রান্ত অভিযোগ, যা মোট অভিযোগের ১৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। তারপর রয়েছে ট্রেড বিল সংক্রান্ত অভিযোগ ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ। এছাড়া ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ, ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, রেমিট্যান্স সংক্রান্ত ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং বিবিধ অভিযোগ ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

অভিযোগের সংখ্যার বিচারে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে ৩৪৫টি। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২১৩টি। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ১৮৫টি, ডাচ-বাংলার ১৭২টি। এরপর অগ্রণী (১৫৭), ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (১৫৬), রূপালী (১৩২), দি সিটি (১২৩), ইস্টার্ন (১২০) ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ১০৬টি।


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম