যুদ্ধাপরাধ: মৌলভীবাজারের চারজনের বিষয়ে রায় মঙ্গলবার                       খালেদাকে নিয়ে ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের দিকে কারা কর্তৃপক্ষ: রিজভী                       উখিয়ায় বাঁশবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৫                       ২ বিশ্বকাপ জিতে ফ্রান্স কোচের বিরল কীর্তি                       চট্টগ্রামে পানির ট্যাংকে মা-মেয়ের লাশ       

৫৫ হাজার কোটি টাকা আটকা খেলাপি ঋণের

এ আদালতে দুই লাখ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিশাল অঙ্কের টাকা আদায় হচ্ছে না। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৫১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংকের ৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।এ অর্থ ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের ৭৩ শতাংশ। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৪৪ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আর্থিক ঋণের সংজ্ঞার দুর্বলতা, ব্যাংকের দুর্বল প্রসিকিউশন, আলাদা বেঞ্চ না থাকা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কাক্সিক্ষত হারে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ফলে মামলার জট বাড়ছে। এ জট নিরসনে অর্থঋণ আদালত আইনের সংস্কার, উচ্চ আদালতে আলাদা বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাব করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিশেষজ্ঞদের সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থঋণ আদালতের রায়ের ৯০ ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আসে। কিন্তু আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঋণখেলাপিরা উচ্চ আদালতে চাতুর্যপূর্ণভাবে রিট দায়ের করছেন। যে কারণে অর্থ আদায় সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর অল্প টাকায় নিয়োজিত প্যানেলভুক্ত অনভিজ্ঞ আইনজীবীর চেয়ে ঋণখেলাপিদের আইনজীবীরা অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ। এতে উচ্চ আদালতে রিটের শুনানিতে ব্যাংকের পক্ষ যুক্তিতর্কে হেরে যায়। পাশাপাশি দলীয় আনুগত্য ও তদবিরের মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর লিগ্যাল অ্যাডভাইজারদের বিরুদ্ধে। সরকারি দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে যোগ্যতা নিয়ে তাদের কখনও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় না। এ ছাড়া একটি মামলা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে একাধিক মামলা। এতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে মূল মামলা। আর উচ্চ আদালতে অর্থঋণ মামলার শুনানির জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক বেঞ্চ না থাকায় কাক্সিক্ষত হারে মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে মামলার জট।অর্থঋণ আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আলাদা বেঞ্চ গঠনের অনুরোধ করে বেশকিছু দিন আগে আইনমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। চিঠিতে অর্থমন্ত্রী অর্থঋণ সংক্রান্ত রিটের কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেই চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু এর পরও কোনো কাজ হয়নি। পাশাপাশি অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছে আইন কমিশন। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং আইন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এম শাহ আলম ও বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর এ সুপারিশ করেন। এ সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। আইন কমিশনের মতে, আর্থিক ঋণের সংজ্ঞায়ই রয়েছে দুর্বলতা। বিদ্যমান আইনের দুর্বলতার কারণে মামলার নিষ্পত্তির হার কম। ঋণ আদায়ে বিবাদীদের প্রতি সমন জারি প্রক্রিয়া দুর্বল হওয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণের অর্থ আদায় করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত অপরাধীর বিচার করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একতরফা ডিক্রি হলেও পরে বিবাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় বিচার কাজ শুরু হওয়ার সুযোগ থাকছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এখানে আইনি জটিলতা আছে। তা না হলে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এমন জট সৃষ্টি হবে কেন। বিচারকের অভাব বা আইনে কোনো জটিলতা আছে কিনা তা শনাক্ত করতে হবে। এ জন্য এর ভেতরে ঢুকতে হবে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন বা সংশোধন করে জট কমাতে হবে। তবে উচ্চ আদালতে ব্যাংক ঋণ মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা অনেক। প্রতি জেলায় একটি আদালত দিয়ে তা নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। এ জন্য একাধিক আদালত স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে পৃথক বেঞ্চ গঠন করতে হবে।বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আউয়াল খান বলেন, ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার জন্য উচ্চ আদালত পৃথক বেঞ্চ গঠন করতে পারেন। এতে মামলার রায় দ্রুত দেয়া সম্ভব হবে।সূত্রমতে, ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৫টি মামলা করা হয়। এ মামলার সংখ্যা অর্থঋণ আদালতে এ যাবত ব্যাংকিং খাতের দায়েরকৃত মোট মামলার ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ৬০ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য এসব মামলা করে। তবে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৩টি মামলা নিষ্পত্তি করে ৮ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা আদায় করা হয়। বাকি ৫১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা আটকে আছে। বিপরীতে মামলা ঝুলে আছে ৮৫ হাজার ৭০২টি।


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম