ঢাকাটাইমস, প্রিয়ডটকমসহ ৫৮ নিউজ সাইট বন্ধের নির্দেশ                       ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা                       ছয় দফা কার্যকর হলেই ক্লাসে ফেরার ঘোষণা ভিকারুননিসার ছাত্রীদের                       বিশ্বের ২৬তম ক্ষমতাধর নারী শেখ হাসিনা                       রাজধানীতে ট্রাক চাপায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত       

হজযাত্রীদের ওপর বিমানের খড়্গ

প্যাকেজটি অনুমোদনের জন্য সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। আর বিমান ভাড়া বাড়ানোয় চরম ক্ষুব্ধ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এজেন্সি মালিকদের সংগঠন ‘হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)’। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ বিমান সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হাজীদের ওপর এ খড়গ চালাচ্ছে।হজ প্যাকেজটি সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘হজ প্যাকেজের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। বিমান ভাড়ার বিষয়ে শনিবার এ সচিব বলেন, বিমান ভাড়ার বিষয়ে আমাদের আপত্তি আমলে নেয়া হয়নি। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা একমত ছিলাম না।’জানা গেছে, ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রে একজন সাধারণ যাত্রীর জন্য ৩৬ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেয়া হয়। আর ওমরাহ যাত্রীর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৪৯ থেকে ৫২ হাজার টাকা রাখা হয়। একই দূরত্বে হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে সেই ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি টাকা। যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টাকা। অর্থাৎ এ বছর হজযাত্রী প্রতি বিমান ভাড়া বেড়েছে ১৩ হাজার টাকা।হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, যাত্রীপ্রতি বিমান ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১৩ হাজার টাকারও বেশি; যা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এজেন্সি মালিকরা বিমান ভাড়া বাড়ানোর চরম বিরোধিতা করেছে। তা সত্ত্বেও বিমান তাদের সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হাজীদের ওপর জুলুম করছে। কারণ একই দূরত্বের পথে যেখানে বিমান সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছে সেখানে হাজীদের জন্য দ্বিগুণ হতে পারে। কিন্তু তিনগুণের বেশি হয় কোন যুক্তিতে? আর যারা সেবা দেবে, তারাই কেন ভাড়া নির্ধারণ করবে। সরকারের দায়িত্ব তাহলে কি? হাজীদের স্বার্থ কে দেখবে?এসব অভিযোগ নাকচ করে বিমানের মুখপাত্র (জেনারেল ম্যানেজার) শাকিল মেরাজ বলেন, গত বছরের পর এ বছর ৪ দফায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সার্ভিস খাতে ৫ শতাংশ ভ্যাট বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া হজ ফ্লাইটগুলো যাবে ভর্তি হয়ে ফিরবে খালি, অতিরিক্ত সেবা ও জনবল নিয়োগ দিতে হয়। এসব কারণে এ বছর বিমান ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিবারের মতো এবারও দুটি হজ প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার ১৭ হাজার টাকা বেশি প্রস্তাব করে প্যাকেজ-১ এ খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। গত বছর এ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা। ১২ হাজার টাকা বেশি প্রস্তাব করে প্যাকেজ-২ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৪০ টাকা। গত বছর ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৫ টাকা। একই প্যাকেজ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হজযাত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। প্যাকেজের বাইরে প্রত্যেক হজযাত্রীকে কোরবানি খরচ বাবদ সাড়ে ১০ হাজার টাকার (৫৫০ রিয়াল) সমপরিমাণ সৌদি রিয়াল নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিতে হবে। গত হজে যাত্রীদের প্রতিটি ট্রলি ব্যাগের মূল্য আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ হাজীকে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা দামের নিুমানের ব্যাগ সরবরাহ করার অভিযোগ উঠে। কোনো কোনো এজেন্সি যাত্রীদের ট্রলিব্যাগ ছাড়াই হজে পাঠায় বলে অভিযোগ উঠে। এসব বিষয় বিবেচনায় এবার হজ প্যাকেজে ট্রলিব্যাগের কোনো ব্যয় নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারের বেঁধে দেয়া শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট আয়তন, পরিমাপ ও কালারের ট্রলিব্যাগ সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সি যাত্রীদের সরবরাহ করবে।চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সৌদি আরবের হজ কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে হজ চুক্তি সম্পন্ন হয়। ২০১৮ সালের হজ পালনেচ্ছুদের নিবন্ধন শেষ হয়েছে অনেক আগেই। ২০১৯ সালের হজ নিবন্ধনও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে হজে যাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ বাংলাদেশি। চুক্তি অনুযায়ী এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ আগস্ট চলতি বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।৮ সামনে সংসদ ও পাঁচ সিটি নির্বাচন প্রথমবারের মতো ইসির জেলা কর্মকর্তাদের সম্মেলনকাজী জেবেলজাতীয় সংসদ ও পাঁচ সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্মেলন। আগামী মার্চের শেষে অথবা এপ্রিলের শুরুতে এ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিজ নিজ জেলার ইসির কার্যক্রম সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠাতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে কমিশন। ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনের মাধ্যমে চিহ্নিত সমস্যার সমাধান দেয়া হবে বলে জানায় ইসি সূত্র।আরও জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইসি সচিবালয়ের এক সমন্বয় সভায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটি প্রশাসনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের আদলে অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে জাতীয় সংসদ ও পাঁচ সিটি কর্পোরেশনসহ অন্য নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।এদিকে সম্মেলনের আলোচনার সম্ভাব্য বিষয় সম্পর্কে কয়েকজন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সম্মেলনে কয়েকটি বিষয়ে তারা বেশ কিছু প্রস্তাব দেবে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য সব নির্বাচনে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া, নির্বাচনী সময়ে আচরণ বিধিমালা তদারকির সুবিধার্থে কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া এবং ইসির কর্মকর্তাদের পদ-পদবি আপগ্রেড ও শূন্যপদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেয়া। এছাড়া কারিগরি জটিলতায় জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে জনগণ ভোগান্তির শিকার হয়। এসব ভোগান্তি কমাতেও প্রস্তাব দেবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, মাঠ পর্যায়ের কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ, ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা হস্তক্ষেপ করে। তাদের কথা না শুনলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। এসব বিষয় কমিশন সচিবালয়কে জানালে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হয়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলনে কমিশনারদের সামনে এসব বিষয় তুলে ধরব।আরও কয়েকজন জেলা কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসগুলোতে লোকবল সংকট রয়েছে। এ কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সম্মেলনে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, একটি উপজেলা বা থানা অফিসে নির্বাচন কর্মকর্তা, অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক ও দু’জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর থাকার কথা। কিন্তু বেশির ভাগ অফিসে অফিস সহকারী বা অফিস সহায়ক নেই।সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে তা চূড়ান্ত হয়নি।ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সমন্বয় সভায় ইসির দশটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ওই দশজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার বক্তব্যে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার বিষয়গুলো মিটিংয়ে উঠে আসে না। একইভাবে সমন্বয় সভার সব নির্দেশনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায় না। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ফেব্রুয়ারি মাসের সমন্বয় সভায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ সম্মেলন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় তিনি জানান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন করার বিষয়টি কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। এরপরই এপ্রিলের শুরুতে এ সম্মেলন করার জন্য সম্ভাব্য সময়সূচি অনুমোদনের জন্য কমিশনের কাছে নথি উত্থাপন করেছে ইসির জনবল ব্যবস্থাপনা শাখা।আরও জানা গেছে, ওই সমন্বয় সভায় সংসদসহ অন্যান্য নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেন ইসি সচিব। ওই সময় সচিব বলেন, এ বছর সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ব্যাপারে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।


  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম