সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন                       রিজার্ভ চুরি : আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব্যাংক                       উন্নয়ন টেকসই করতে নির্মল প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিতে হবে: বিশ্বব্যাংক                       নতুন করদাতাদের বেশির ভাগের বয়স ৪০ বছরের নিচে: অর্থমন্ত্রী                       এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ       

চলেই গেলেন মেয়র আনিসুল হক

বাংলাদেশ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের দা ওয়েলিংটন হাসপাতালে তিনি মারা যান। হাসপাতালে তিনি কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস (ভেন্টিলেশন) যন্ত্র দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। রাতে তাঁর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র খুলে নিয়ে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাঁকে ঢাকায় আনার কথা রয়েছে। ওই দিনই আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।ডিএনসিসি গতকাল রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ আগস্ট তাঁকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর তাঁকে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়রের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ৩১ আগস্ট আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাঁকে ওয়েলিংটন হাসপাতালে আনা হয়।গত মঙ্গলবার মেয়রের পরিবারের একজন সদস্য বলেন, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। এরপর বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে মেয়রকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আনিসুল হক ১৯৫২ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশবের একটি বড় সময় কাটে ফেনীর সোনাগাজীর নানাবাড়িতে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি স্ত্রী রুবানা হক, দুই কন্যা ও এক ছেলে রেখে গেছেন। সৈয়দ মঈনুদ্দিন হোসাইন ও ফাতেমা জোহরা বেগম দম্পতির বড় সন্তান আনিসুল হক। তাঁর ছোট ভাই আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বর্তমানে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্ণাঢ্য জীবন ছিল আনিসুল হকের। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের মেয়র নির্বাচনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও তিনি বিপুল জনপ্রিয় ছিলেন। আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বড় ছেলে নাভিদুল হক দেশ এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওতে কর্মরত এবং আরেক মেয়ে তানিশা হক মোহাম্মদী গ্রুপের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। মেয়র হওয়ার আগে ব্যবসায়ী হিসেবে তিনিই মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন।আনিসুল হক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের তৈরি পোশাক খাত, জ্বালানি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যম খাতের সঙ্গে জড়িত। পোশাকমালিকদের সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি সার্কভুক্ত দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সংগঠন সার্ক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত।আশির দশকে আনিসুল হক বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর উপস্থাপনায় বিটিভির ঈদের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আনন্দমেলা, রাজনীতিবিষয়ক অনুষ্ঠান মুখোমুখিসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন।আনিসুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ শোক প্রকাশ করেছেন।মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে ঢাকার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। এর অনেক সুফল এখনো পাচ্ছে ঢাকাবাসী। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে আনিসুল হক পরিবহনশ্রমিকদের তোপের মুখে পড়েন। পরে ওই সড়ক দখলমুক্ত করে তা সড়ক হিসেবে চালু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ফলে দীর্ঘ বছর ধরে দখল হয়ে থাকা এই সড়ক এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। এ ছাড়া গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় বিশেষ রঙের রিকশা এবং ‘ঢাকা চাকা’ নামে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস সেবা চালু করেন আনিসুল হক। আবার ঢাকার গাবতলী থেকে সাভারে যাওয়ার পথটি ছিল যন্ত্রণাময়। এলোপাতাড়িভাবে বাস রাখার জন্য এখানেও যানজট লেগেই থাকত। আনিসুল হকের উদ্যোগে এই সড়কটিও এখন দখলমুক্ত। এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়কে যানজট কমাতে মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে ইউলুপ করার উদ্যোগ নেন আনিসুল হক। এরই মধ্যে মহাখালী থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। মাত্র দুই বছরের জন্য মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এ অল্প সময়ের কাজের জন্যও একজন ব্যতিক্রমী মেয়র হিসেবে ঢাকাবাসী আনিসুল হককে মনে রাখবে বহুদিন।





    • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

      © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
      সম্পাদক ও প্রকাশক:
      মোঃ গোলাম মোস্তফা
      সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
      ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
      নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
      মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
      ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

      এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
      অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
      প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

    • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

    • সামাজিক মাধ্যম