সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন                       রিজার্ভ চুরি : আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব্যাংক                       উন্নয়ন টেকসই করতে নির্মল প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিতে হবে: বিশ্বব্যাংক                       নতুন করদাতাদের বেশির ভাগের বয়স ৪০ বছরের নিচে: অর্থমন্ত্রী                       এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ       

কৃষক লীগ নেতা ৩১ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েও হত্যার হুমকি দিচ্ছে

তাছাড়া ওই বাড়ির একাধিক ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখল করেও রেখেছেন তারা। এসব অভিযোগে ওই কৃষক লীগ নেতা জহিরুল শেখ শ্যামল ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। তবে কৃষক লীগ নেতার দাবি, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে তাকে ও তার ভাইদের হয়রানি করা হচ্ছে। জহিরুল শেখ শ্যামল রাজধানীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি।অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়ারীর ১৭/২/১ কেএম দাস লেনে সাড়ে ৬ কাঠা জমির মালিক ইকবাল হোসেন। পৈতৃক সূত্রে এর অংশীদার তার আরও এক ভাই ও চার বোন। অন্য ভাই-বোনদের না জানিয়ে বাড়ি তৈরির জন্য ডেভেলপার কোম্পানি হিরো বিল্ডার্সের মালিক আবুল বাশারের সঙ্গে চুক্তি করেন ইকবাল।অন্য ভাই-বোনরা যাতে ওই জমির ভাগ চাইতে না পারেন সেজন্য সেখানে শেখ শ্যামলকে আশ্রয় দেন ইকবাল। শ্যামল ও তার সহযোগীদের ভয়ে ইকবালের ভাই-বোনেরা জমির ভাগ নিতে আসতে পারেননি। এদিকে বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এলে জমির মালিক ইকবাল ও ডেভেলপার কোম্পানির মালিক বাশারের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।এ সময়ও শ্যামল ও তার সহযোগীদের সহায়তায় বাড়ির মালিক ইশবাল ডেভেলপার বাশারকেও বিতাড়িত করে। এরপর শ্যামল তার অন্য ভাইদের নিয়ে ওই বাড়ির একাধিক ফ্ল্যাটে অবস্থান করতে থাকে।ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন- ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে ২০১৩ সালে থেকে বিভিন্ন সময়ে শ্যামল, শ্যামলের ভাই মিঠু ও সানি ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে।সানি, টিটু ও মিঠু তার বাড়ির ছয়তলার উত্তর-পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটটি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে দখল করে আছে। নিচতলার একটি ফ্ল্যাট শ্যামল দখল করে আছে। ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার কাছ থেকে শ্যামল এ পর্যন্ত ১৫ লাখ, মিঠু এক লাখ ২০ হাজার ও সানি ১৫ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছে। এ বছরের ২৮ অক্টোবর আমার বাসায় প্রবেশ করে শ্যামল ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।প্রাণভয়ে আমি তাকে ২ লাখ টাকা দিই। ৩ নভেম্বর দুপুরে মিঠু ফোন করে আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এর কয়েকদিন আগে সানি ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। তাকে চাঁদা না দেয়ায় ৩ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাসার নিচে গলিপথে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে ৪ নভেম্বর আমি থানায় মামলা করেছি।’খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্যামলরা সাত ভাই। এদের মধ্যে পাঁচ ভাই ১৭/২/২ কেএম দাস লেনের ইকবালের বাড়িতে থাকেন। নিচতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন জহিরুল শেখ শ্যামল (৩৫)।ছয়তলায় সানি, টিটু ও মিঠু থাকেন। ৭ তলায় পিন্টু সপরিবারে থাকেন। মিলন ও পলাশ নামে অপর দুই ভাই অন্যত্র বসবাস করেন। ওই বাসায় বসবাসকারী পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট দখল, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা আছে। তবে শ্যামলের ভাই টিটুর বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ নেই বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।এদিকে ইকবাল হোসেন অবশ্য অংশীদার ভাইবোনদের বঞ্চিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভাই-বোনদের অংশ বুঝিয়ে দিয়েছি।পুলিশ সূত্র জানায়, কেএম দাস লেনের ওই বাড়িতে বসবাসরত অবস্থায় নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে শ্যামল ও তার অন্যান্য ভাই। গত ৩ নভেম্বর রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৩ পিস ইয়াবা, ৩১ বোতল ফেনসিডিল ও ১১টি ফেনসিডিলের খালি বোতলসহ শেখ শ্যামল ও তার ভাই তানভীর আলম পিন্টুসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন ছিনতাইকালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সানি।এ দুটি মামলায় তারা এরই মধ্যে জামিন পেয়েছেন। পরে পুলিশের মোটরসাইকেল চুরি ও তা ব্যবহার করে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের সময় ২০ নভেম্বর ফের সানি গ্রেফতার হয়। ওয়ারী থানার বর্তমান ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৪ জুলাই আমি এ থানায় যোগদান করি।এক মাসের মধ্যে ১৭/২/২ কেএম দাস লেনের বাসার সামনে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ওই বাড়ির ডেভেলপার আবুল বাশারসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, ওই ঘটনার সঙ্গে শ্যামল ও তার একাধিক ভাই জড়িত। তাছাড়া পুলিশের তদন্তে শ্যামল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।ওয়ারীর ১৮/৭/বি/১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা পারভেজ সাজ্জাদ বলেন, ‘৩ নভেম্বর স্থানীয় একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফিরছিলাম। দুপুর ২টার দিকে ১৭/২/এ বাসার সামনে পৌঁছলে সানির নেতৃত্বে চারজন ছিনতাইকারী চাপাতির ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।এ সময় আমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। পরে সানিকে আটক করা হয়। অন্য তিনজন পালিয়ে যায়। ওয়ারী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে সানিকে থানায় নিয়ে যায়।পাশাপাশি তার কাছ থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে সানিসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করি।’ ডেভেলপার কোম্পানি হিরো বিল্ডার্সের মালিক আবুল বাশার বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে ওই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বছর দেড়েক আগে এর কাজ শেষ হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভবনের ২৫টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৩টি আমার পাওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত ৩টি ফ্ল্যাট পেয়েছি।কৃষক লীগ নেতা শেখ শ্যামল ও তার সহযোগীদের সহযোগিতায় ইকবাল বাকি ফ্ল্যাট দখল করে রেখেছে। ইতিমধ্যে ৬-৭টি ফ্ল্যাট তারা বিক্রি করে দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি।ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন। এদিকে জহিরুল শেখ শ্যামল বলেন, আমি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।ইকবাল হোসেন হলেন আমার দূরসম্পর্কের মামা। তিনি ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকও। আমি তাকে ছয়টি ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছি। কমিশন বাবদ তার কাছে ১১ লাখ টাকা পাব। তিনি ওই টাকা দেননি।শ্যামল বলেন, ইকবালের কোনো ফ্ল্যাট আমি দখল করে রাখিনি। আমি ২০ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছি। সাততলায় পিন্টু যে ফ্ল্যাটে থাকে তাও কেনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আক্তার নামে সিআইডির সদস্য ইকবালের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। আমি সেখানে সাক্ষী ছিলাম। পরে দেখা যায়, ওই ফ্ল্যাটের মালিক ইকবাল নয়। ইকবালের এক বোন এর মালিক। এ কারণে আক্তারকে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেয়া যাচ্ছিল না।পরে আমি হস্তক্ষেপ করে ওই ফ্ল্যাটটি সিআইডি কর্মকর্তা আক্তার হোসেনকে বুঝিয়ে দিই। এ কারণে ইকবাল আমার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর জের ধরে মোটা অংকের টাকা খরচ করে আমাকে ও আমার ভাইদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়। শেখ শ্যামল আরও অভিযোগ করেন, প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি গত ৮ জুন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসির কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ তার নিরাপত্তায় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।সিআইডি সদস্য আক্তার হোসেন বলেন, এখানে আমি নিজে ফ্ল্যাট কিনিনি। ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে আমার শ্যালকের জন্য। ফ্ল্যাট কেনার পর প্রায় দেড় মাস ধরে আমি সেখানে থাকি। আমার ফ্ল্যাট কেনা বা না কেনা নিয়ে শ্যামল বা তার কোনো ভাই ঝামেলায় পড়েনি। তারা খারাপ লোক।তাই সমস্যায় পড়েছে। তাছাড়া ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে শ্যামল ও ইকবালের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। জানতে চাইলে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, কৃষক লীগ নেতা পরিচয়ে শেখ শ্যামল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছিল।তাই তার বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধ তৎপরতায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে শ্যামলের ভাইদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।





    • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

      © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
      সম্পাদক ও প্রকাশক:
      মোঃ গোলাম মোস্তফা
      সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
      ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
      নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
      মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
      ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

      এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
      অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
      প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

    • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

    • সামাজিক মাধ্যম