সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন                       রিজার্ভ চুরি : আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব্যাংক                       উন্নয়ন টেকসই করতে নির্মল প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিতে হবে: বিশ্বব্যাংক                       নতুন করদাতাদের বেশির ভাগের বয়স ৪০ বছরের নিচে: অর্থমন্ত্রী                       এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ       

রাসূল (সা.)-এর প্রেমই ঈমান

তাই মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আল্লাহর নুরে নুরান্বিত ও আল্লাহর প্রেমে বিমুগ্ধ। তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন থেকে প্রেমের শিক্ষা লাভ করেছেন যে প্রেমের মহিমা তিনি বিলিয়েছেন বিশ্ব মানবের হৃদয়ে। যে প্রেম মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে শিক্ষা দিয়েছে, মানবতাবাদের শিক্ষা দেয়েছে, সব সৃষ্ট জীবকে ভালোবাসতে শিক্ষা দিয়েছে।যারা রাসূল (সা.) থেকে প্রেমের দীক্ষা নিয়েছেন তারাই আল্লাহকে ভালোবাসেন, তারাই রাসূলকে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন আহলে বাইতকে। তারাই জগতের বুকে আশেকে রাসূল নামে পরিচিতি লাভ করেছেন। তারা কোরআনের আলোকে জীবন পরিচালনা করেছেন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রাসূল (সা.)-এর প্রেমের আদর্শ বাস্তবায়ন করেছেন। তাদের অন্যতম ছিলেন রাসূল (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরাম, শোহাদায়ে কেরাম, আহলুস সুফ্ফা, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং আল্লাহর অলিগণ।আর যারা নবীজীর আদর্শবিবর্জিত, পার্থিব জীবন নিয়ে ব্যস্ত তারা ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি। তারা মানুষকে ভালোবাসতে শেখেনি। তারা রাসূল (সা.)-এর আহলে বাইতকে মর্যাদা দিতে জানে না। ইসলামের বেশধারী নরপিশাচ ইয়াজিদের মতো তারা বৈষয়িক জীবন ও বিত্ত-বৈভবকেন্দ্রিক মিথ্যা নেশায় মত্ত। তাদের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন নরকতুল্য, তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। তারা মোহগ্রস্ত ব্যক্তির উ™£ান্ত হয়ে দুনিয়াদারিতে লিপ্ত। তাদেরই কারণে সমাজে এত অশান্তি-কলহ, খুন, হত্যা বিরাজ করছে।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রেম, ভালোবাসা, মনুষ্যত্ববোধ, নৈতিকতা, ধর্মীয় অনুভূতি ম্রিয়মাণ আজ। সাধারণ মানুষের নামধারী ও বেশধারী ধর্মীয় ব্যক্তিদের জিঘাংসার প্রতিচ্ছবি মূর্তমান। ধর্মাচার শুধু আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে। অন্তরে খোদাভীতি থাকলে মানুষ হয় বিনয়ী, পরোপকারী হয় নিঃস্বার্থ, পারস্পরিক সম্পর্ক হয় হৃদ্যতাপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীল, যাতে রয়েছে রাসূল (সা.)-এর আদর্শের প্রতিফলন। কিন্তু নৈতিক শিক্ষার মান ও প্রয়োগ জীবনের সব ক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক অবক্ষয় ও পতন রোধ এবং মানবতাবোধ জাগাতে রাসূল (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।রাসূল (সা.) ছিলেন সর্বক্ষেত্রে আদর্শ। তাঁর চরিত্র মাধুর্যে প্রেম-ভালোবাসা, ত্যাগ, ক্ষমা ও বিনয়ের প্রতিচ্ছবি দেখা যেত। তিনি প্রতিহিংসা, পরচর্চা কিংবা পরের অনিষ্টসাধন করতেন না। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি ন্যায়পরায়ণ, পাক-পবিত্র, সত্যবাদী, আমানতদার, বিনয়ী ও নিরহঙ্কার। তিনি ছিলেন বিশ্বজাহানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব অথচ নিজের জুতা, কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। নিজ বকরি নিজেই দোহন করাসহ সাংসারিক নানা কাজ করতে তিনি পছন্দ করতেন।অঙ্গীকার পালনে তিনি ছিলেন অগ্রণী। আত্মীয়স্বজনের প্রতি তিনি অতিমাত্রায় খেয়াল রাখতেন। নিজে না খেয়ে থেকেছেন কিন্তু দান করা বন্ধ ছিল না। নিরন্ন-অভুক্তকে সর্বোস্ব উজাড় করে দিয়েছেন, নিজের না থাকলে অন্যের মাধ্যমে জোগাড় করে দিয়েছেন। মানুষের সঙ্গে হৃদ্যতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মিশতেন। কাউকে অভিশাপ দিতেন না, অন্যের সমালোচনা করতেন না। বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করতে বলেছেন। উচ্চস্বরে কখনও কথা বলতেন না। কোনো সৃষ্টিকে ছোট মনে করতেন না।তিনি সব ধর্মের প্রতি উদারতায়, বিধর্মীদের সঙ্গে ব্যবহারে, বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে, সাম্য ও মৈত্রী স্থাপনে, নারী জাতির উন্নয়নে, মাতৃভক্তিতে, জ্ঞান-সাধনায়, আল্লাহর প্রতি নির্ভরতায়, ক্ষমায়, বদান্যতায়, জীবে দয়ায়, শ্রমের মর্যাদা দানে, ন্যায়বিচারে, স্বামী হিসেবে, গৃহী হিসেবে, পিতা হিসেবে, স্বাবলম্বনে, চরিত্র-মাধুর্যে, সমাজ উন্নয়নে, বৈজ্ঞানিক রূপে, অতিথি সেবায়, আর্ত, পীড়িত ও দুর্গতদের সেবা ও সাহায্যদানে, নাগরিক জীবনের কর্তব্য পালনে, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে, সর্বশ্রেষ্ঠ সফল মানুষ হিসেবে মানবীয় সব গুণ রাশির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে ছিলেন। রাব্বুল আলামিন তাঁর সম্মানে বলেছেন, ইন্নাকা লা আলা খুলুকিন আজীম, অর্থাৎ নিঃসন্দেহে আপনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। পবিত্র কোরআনুল কারিমকেই তাঁর চরিত্রের পরিচয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল পবিত্র কোরআনেরই বাস্তব ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন।রাসূল (সা.)-এর আদর্শ ও ত্যাগের মহিমায় অনুপ্রাণিত হয়ে মানবসেবা করলে পৃথিবীতে শান্তি ফিরবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘কেয়ামত দিবসে আল্লাহতায়ালা বলবেন, হে আদম সন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, তুমি আমার শুশ্রুষা করোনি। আমি তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে আহার করাওনি। তোমার কাছে আমি পানীয় চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে পানীয় দাওনি। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি যদি সেদিন দান করতে আজ তা পেতে। তাই আল্লাহ বলেছেন, মানুষ আমার মর্ম, আমি মর্ম তার।প্রেমহীন মানুষ পশুতুল্য। আল্লাহকে পেতে হলে প্রেমের ভাষা রপ্ত করতে হবে, রাসূল (সা.)কে ভালোবাসতে হবে। তাঁকে অনুসরণ করতে হলে তাঁর আহলে বাইতকে ভালোবাসতে হবে। যুগে যুগে আশেকে রাসূলগণ সাফল্যের মণিকোঠায় পৌঁছেছেন রাসূল (সা.) কে ভালোবেসে এবং তার আহলে বাইতকে। উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক প্রাণপুরুষ রাসূলনোমা আল্লামা হজরত শাহ সুফি সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী (রহ.) ছিলেন তাদের অন্যতম। তিনি রাসূল (সা.)কে ভালোবেসে লাভ করেছেন ‘রাসূলনোমা’ উপাধি। তিনি সর্বাবস্থায় রাসূল (সা.)-এর দিদার লাভ করতেন এবং অন্যকেও দর্শন করাতে পারতেন। বাঙালির সন্তান হয়েও তিনি ফার্সি ভাষায় রচনা করেছেন বিখ্যাত দিওয়ানে ওয়াইসী কাব্যগ্রন্থ। রাসূল (সা.)-এর প্রেম-ভালোবাসায় উৎসর্গিত দিওয়ানের গজল ১৭৯টি ও কাসিদার সংখ্যা ২৩টি। তিনি দিওয়ানে ওয়াইসীর শুরুতে লিখেছেন,‘মাশরেকে হুব্বে মুহাম্মদ মতলায়ে দিওয়ানে মা মতলায়ে খুরশীদ ইশকশ সিনায়ে সোজানে মা।’অর্থ : মুহাম্মদের (সা.) প্রেমের আলোতেই আমার কাব্যের সূচনাতাঁর প্রেমের সূর্যোদয়ই আমার মনের জ্বালা যন্ত্রণা ॥তিনি লিখেছেন, আমার দিওয়ানের বা কাব্যের প্রথম ছন্দ মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রেম থেকে উদ্ভূত। তাঁর প্রেমের সূর্য আমার সিনা বা বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।রাসূল (সা.)-এর প্রতি অপরিমেয় ভালোবাসার মাধ্যমে প্রেমিক ওয়াইসী যে দিকনির্দেশনা দান করেছেন তা সর্বযুগের সব মানুষের জন্য সর্বোত্তম পাথেয়। যা রাসূল (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়ন, বিশ্ব মানবতাবোধ জাগ্রত এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ইহকাল ও পরকালে সুখী-সুন্দর, জীবনের জন্য একান্ত প্রয়োজন নবী প্রেম।

  • ক্রাইমনিউজবিডি.কম

    © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    সম্পাদক ও প্রকাশক:
    মোঃ গোলাম মোস্তফা
    সুইট -১৭, ৫ম তলা, সাহেরা ট্রপিক্যাল সেন্টার,
    ২১৮ ডঃ কুদরত-ই-খোদা রোড,
    নিউ মার্কেট ঢাকা-১২০৯।
    মোবাইল - ০১৫৫৮৫৫৮৫৮৮,
    ই-মেইল : mail-crimenewsbd2013@gmail.com

    এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
    অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
    প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

  • সামাজিক মাধ্যম